Monday, February 2, 2015

একটি প্যানপ্যানানি কবিতা

একটি প্যানপ্যানানি কবিতা
অমলেন্দু ঠাকুর 

কখনো তুমি ছলাৎ ছলাৎ জল,
কখনো তুমি বুদবুদ, কখনো বা জমে দই।
তোমার গোমড়া মুখে হাসি ফোটা , এবং
বাব্‌ল ফাটা র মধ্যে অদ্ভুত মিল, দুটোই বড়
নিঃশব্দে হয়।
বাতাস বয় শন শন শব্দে...শন শন করে যায় গুন্তি
হইতে নির্গত তীর। পার্থক্য শুধু এই বাতাস হৃদয় ছোঁয় না,
তীর হৃদয় ছোঁয় , শুধু স্পর্শ করে না, বিদীর্ণ করে  দিয়ে যায়।
লিখে দিয়ে যায় রক্তাক্ত অক্ষরে ‘আমি তোমাকে ভালবাসি’।
তুমি গোঁসা করলে , ঘরপোরা গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে,
হিরোসীমা নাগাসাকি বলে, আমাদের পাতালে পাঠিয়ে দাও।
তোমার অতীব ক্রোধ হয়ত এই বিশ্বব্রম্মান্ড কে কৃষ্ণগহ্বর এর চোরাস্রতে
টেনে নিয়ে যেতে পারে, তাই তো আমি বাব্‌ল ফাটা দেখতে ভালবাসি।
মুক্তি , ওরে মুক্তি কোথায় পাবি, মুক্তি কোথায় আছে... 
মুক্তি ত আমি চাই না, আমি চাই মুক্তো,
তোমার হাসিতে যে মুক্তো ঝরে,সে মুক্তো না,
আমি চাই সেই মুক্তো যা পাওয়া যায় ঝিনুকের উদর নিংড়ে,
যার বিনিময়ে পাওয়া যায় শত সহস্র ডলার এর মোড়ক,
আর সেই মোড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে চুপটি করে বসে থাকব আমি,


নিশ্চিন্তে নিভৃতে !

খোকা ৪২০ মুভি রিভিউ।

খোকা ৪২০ (দেব, শুভশ্রী,নুসরত,তাপস,রজতাভ) : কিছু চিন্তা , কিছু ভাবনা

অমলেন্দু ঠাকুর 


উপরোক্ত বাংলা ছবিটি আজ দেখলাম , তাই কিছু লিখতে ইচ্ছা করল। 

গুটি গুটি পায়ে বাংলা ছবি যে আজ অনেক পথ পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক তে পরিনত হয়েছে , তা খোকা-৪২০ ছবি না দেখলে বোঝা যাবে না। ছবিটিতে নাকি তেলুগু ছবির ছায়া আছে বলছে, কিন্তু শুধু ছায়া নিয়ে তো আর ছবি হয় না, সেই ছায়া তে রক্ত মাংস লাগিয়ে ছবিটিতে পরিপূর্নতা আনার পুরো কৃতিত্ব অবশ্যই বাঙ্গালী পরিচালক ও প্রজোযকদের। ছবিটির একদম শুরুর দিকেই “Mad I am , তোর প্রেমে , Mad I am mad…” গানটি সত্যই মন কে একটু এবং বেশি করে কানকেই নাড়া দিয়ে যায়। এছাড়া “সলিড কেস খেয়েছি...” , “গভীর জলের ফিস আমি ...” গানগুলি যেমন নয়নাভিরাম তেমনি শ্রুতিমধুরও বটে। বাহবা দিতে হয় গানগুলির গীতিকারকে , আমার মনে হয় উনি একজন ভাল ডাক্তার এবং গানও লেখেন, কারণ দর্শকদের নারীটা এত ভাল বোঝেন ! 

ছবিটিতে সবথেকে যেটা বেশি টানে , সেটি হল এর Action Stunts, যার জন্যই এটাকে প্রাপ্তবয়স্ক বলা যায়। শুধু বলিউড কেন, হলিউড এও এরকম Action আগে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। নায়কের চরিত্রে দেব অবলীলাক্রমে সেইসব দুর্দান্ত ও রোমহর্ষক Action সিন করেছেন। অভিনয়েও উনি কম যান না, তবে অভিনয়ের থকে মারপিট করতেই ওনার সময় বেশি চলে গেছে।
উড়তে অনিচ্ছুক একপাল হাঁস কে পিছন থেকে তাড়া করলে তারা যেভাবে উড়ে যায়, সেভাবেই দেব ও শ্ত্রুপক্ষের ৪/৫ টা গাড়ী একসাথে উড়ে এ ওর ওপর গিয়ে যেভাবে পড়ছে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সত্যি অপূর্ব। এটাতো কিছুই না, আরও নানারকম উদ্ভাবনী Stunts দেখতে পাবেন এই ছবিতে।

পার্শ্বনায়িকা হিসাবে নুসরত দারুন অভিনয় করেছেন। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার ‘রূপ, রস,গন্ধ,স্পর্শ’ সবই ইনি পেয়েছেন, এনাকে আর পায় কে ? দেখতে মিষ্টি ও অভিনয়ও মিষ্টি, মাঝে মাঝে একটু যেন আড়ষ্ট, বোধহয় লজ্জায় । কিন্তু তাতে কি ? লজ্জাই ত নারীর ভূষণ।

নায়িকার চরিত্রে শুভশ্রী কাঁপিয়ে দিয়েছেন। এমন ‘সুন্দর,শান্ত,সাবলীল অথচ দরকার পড়লে গর্জে উঠতে দ্বিধা না করা’ অভিনয় অনেকদিন দেখি নি। তবে এই চরিত্রটাতে বলিউড এর আদুরে নায়িকা হিসাবে খ্যাত ম্যাডাম জুহি চাওলা কে খুব মিস করেছি।যতদুর চোখ যায় এক সবুজ প্রান্তর, তার একদিকে বলিষ্ঠ বুকের পাটা সহ ৬-প্যাক নিয়ে নায়ক হাফ উদোম হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন , অন্যপ্রান্ত থেকে নায়িকা দুহাতে নিজের ঘাঘরাটি খামছে ধরে অল্প একটু তুলে (যাতে হোঁচট না খেতে হয় ) slow motion এ দৌড়তে দৌড়তে এসে নায়কের বুকে আছরে পড়ছেন এবং তারপর নায়ক ও নায়িকা দুজনেই চুড়মার হয়ে যাচ্ছেন , এইরকম দৃশ্যে ম্যাডাম জুহি র জুরী মেলা ভার। শুভস্রী র পক্ষে অতটা সম্ভব হয় নি , তবে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন নি।

বেশকিছু আবেগজড়িত ডায়লগ এ ভর্তি এই ছবিটি। তাই স্পর্শকাতর দর্শক দের চখ কড়কড় করে উঠতেই পারে , তাই আগেভাগে টিস্যু পেপার কাছে রাখা বাঞ্ছনিয়। কারণ টিস্যু পেপার আনতে যে মহামূল্য সময় নষ্ট হবে , তা একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ না।
মারপিট , গান ও আবেগজড়িত ডায়লগ , এইসব বাদ দিলে , ছবিটার বাকীটা শিক্ষামূলক বলা যায়। মানুষের জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, কলহ, দ্বিধা দ্বন্দ্ব, ভুলভ্রান্তি এবং সবশেষে সত্যের ই জয়গান গাওয়া হয়েছে ছবিটিতে।

কঠিন,বিশ্রী ,শুস্ক ও তীব্র ঠান্ডার পর যেমন কোকিল এর কুহু ডাক , পাখির কলকাকলী ও গাছের ডালের ফাঁকে সবুজ পাতার উঁকি মারা দিয়ে যেমন ঝকঝকে বষন্ত আসে, ঠিক সেইভাবেই এই ছবিটিতেও ঠেলাঠেলি , ধাক্কাধাক্কি , মারপিট , রক্তারক্তি ও বহু কথা কাটাকাটির পর শেষ দৃশ্যে সবাই হাসিমুখে একসাথে দাঁড়িয়েছেন। যারা সত্য কে মানতে চান নি, তাঁরা বলেছেন ‘না আমরাই ভুল ছিলাম ‘ আর যারা সত্যের জন্য লড়াই করছিলেন তাদেরও মুখে জয়ের হাসি...কেমন যেন একটা গদগদ সিন। অপূর্ব এই দৃশ্য...চোখে জল এসে যায়। (টিস্যু পেপার!! )

যেহেতু দুটি নায়িকা, আন্তজার্তিক চলচিত্রের নিয়ম(?) মেনে এ ছবিতেও একজন নায়িকা ( এখানে নুসরত) নিজে আত্মত্যাগ করেছেন , তবে হ্যাঁ, সেই সেকেলে ছবির মত তিনি সুইসাইড বা খলনায়কের গুলি তে মারা যান নি। সত্য কে মেনে নিয়েছেন নিঃশর্ত ভাবে। এটাই এই ছবির u.s.p. বলা যায়। কে জানে হয়ত বা পার্ট-২ তে , পরিচালক এই নায়িকা কে মেরে ( বা ডিভোর্স করিয়ে, বিয়ে ত আবার বেশিদিন আজকাল টেকে না) নূসরত কে তার বেঘোরে খোয়ানো প্রেমিক কে পাইয়ে দেবেন , নায়ক ও খুশি, কারণ ততদিনে তিনিও হয়ত নায়িকার সাথে হাঁফিয়ে উঠেছেন।

এই ছবিতে আর একটি বড় পাওয়া হল তাপস পাল ও রজতাভ দত্ত এর অভিনয়। সম্পুর্ন ভিন্ন রুপে এদের দেখতে পাবেন। মাঝে মাঝে এটা মনে হওয়া একদমই অস্বাভাবিক নয় যে “এনারা ওঁরাই তো ??”

নির্মম ও নিষ্ঠুর খলনায়ক এর চোখে কাজল পরার বলিউডি পরম্পরা , এই ছবিতেও বর্তমান। তবে একটু বাঙালীয়ানা আনতে মেকাপম্যান কাজল টা শুধু চোখের পরিসীমার মধ্যেই আবদ্ধ রাখেন নি , কানের দিকে কিছুটা টেনেও দিয়েছেন, ছোটোবেলায় আমাদের মায়েরা যেমন দিতেন। তাই খলনায়ক যখন মার খায় , কেমন যেন একটু মায়া হয়।

ছবিটি youtube নামক ফ্রী মুভি থিয়েটার এ দেখান হচ্ছে। তাই দেরী না করে তাড়াতাড়ী দেখে নিন। কিছু কুচক্রী ও আইনের পৃষ্ঠপোষকের কানভাঙ্গানি তে , হল মালিক আবার ছবিটি তুলে না নেয়।

সর্বশেষে একটা কথা বলতে চাই, ছবিটির একশত ভাগ অনুধাবন করতে চাইলে, আপনি একদিন ছুটি নিন , (কিন্তু স্ত্রী যেন ছুটি না নেয়), স্ত্রী কে অফিস এ পাঠান, বাচ্চাদের স্কুল বা ডে কেয়ার এ পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত মনে দেখুন। কোনোরকম disturbance এই ছবিটি দেখার সময় খুবই মারাত্মক, কারণ ছবিটি দেখতে দেখতে আপনি যখন বিভোর হয়ে যাবেন , আপনার শরীরের শিরা ,উপশিরায় একপ্রকার রসের সঞ্চারন হবে, তাই কোনোরকম disturbance আপনার এই রসের প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে, যেটাতে আপনি হয়ত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তাই দয়া করিয়া দেখার আগে ভেবেচিন্তে, প্লান করে দেখুন।
যাইহোক আমার কথাটি ফুরলো, নটে গাছটি মুড়লো!

মায়াজাল

                       মায়াজাল            

                                      অমলেন্দু ঠাকুর 




কাপড়া কফিন

কাপড়া কফিন

নামটা শুনে বেশ কৌতুহল হয়েছিল , অদ্ভুত নামটা ‘কাপড়া কাফিলা’ । কলিকাতার গড়িয়াহাট অঞ্চলের কাছাকাছি কোন এক বসতবাড়ীর মধ্যই মনে হল এই দোকানটি। প্রধানত মেয়েদের বুটীক শাড়ী পাওয়া যায়। এছাড়াও ছেলেদের পাঞ্জাবি ও অন্যান্য জিনিসও পাওয়া যায়।
‘কাপড়া কাফিলা’ না বলে ‘কাপড়া কফিন’ বললে বোধহয় ভাল হত। এরকম শ্বাসরোধকারি দোকান আমি আর দুটি দেখিনিদোকানের ভিতর প্রবেশমাত্র দোকানদার (বা গৃহস্বামী বলাই বোধহয় ভাল) , ‘হাই’ বলিয়া সম্বোধন করিলন। যে ভদ্রমহিলা এই দোকানটির হত্তাকত্তা , ইনি মনে হয় ওনারই স্বামী। পরনে একটি ধবধবে সাদা পাজামা ও সাদা পাঞ্জাবী। একদম ধোপধুরস্ত।
পথে কোনোরকম অসুবিধা বা দোকান চিনতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা ইত্যাদি জানার পর ,একটু যেন করজোরেই ক্ষমা চেয়ে নিলেন, যে ওপরে যেখানে লোভনীয় শাড়ীগুলি রাখা আছে সেই ঘরের শীততাপ নিয়ন্ত্রনকারী যন্ত্রটি নাকি কাজ করছে না, তাই আমাদের নাকি খুব কষ্ট হবে। কেমন যেন মনে হল আমরা এখানে মধ্যাহ্ণভোজনের নিমন্ত্রন খেতে এসেছি,একটু পরেই হয়ত ডিশ ভর্তি খাবার হাজির হবেভেবে একটু খুশিই হলাম , কারন আমি একটু পেটুক লোক, খাবার এর নাম শুনলেই দেহের শিরা-উপশিরায় যেন দোল খেলা শুরু হয়ে যায় আর রক্তকনিকা গুলি ‘হোলি হ্যায়, হোলি হ্যায়’ বলে লাফাতে থাকে। যদিও খাবারের কোন আয়োজন বা তার আভাষ দেখতে পেলাম না।  
পরমুহুর্তেই হাজির হলেন দোকানের মালকিন, যিনি ‘Hi !!...Sorry for being late…’  বলে সেই যে ইংরেজীতে শুরু করলেন , একদম শেষ অবধি টেনে গেলেন। সবাই বাঙ্গালী হওয়া সত্বেও , কোন এক অজ্ঞাত কারণে উনি সারাক্ষন বিজাতীয় ভাষায় কথা বলে গেলেন। যেটুকু বাংলা মুখ ফস্কে ও ভুলবশত বেরিয়ে যাচ্ছিল , তা তিনি ‘I mean ..’  বলে শুধরে ইংরিজী করে নিচ্ছিলেন।
যাইহোক শাড়ী দেখতে ওপরে দোতলায় উঠলাম। ভদ্রমহিলা আবার একপ্রস্থ ক্ষমা চেয়ে নিলেন, আমাদের ঠান্ডা হাওয়া দিতে না পারার জন্য। অনেকরকম  রঙ-বেরঙের  শাড়ীতে ভর্তি ওপরটা। বর্নান্ধদের কাছে যেমন সব রঙ ই সমান , আমার কাছেও সব শাড়ীই একই লাগে। কোনটা যে ভাল আর কোনটা যে খারাপ বুঝতে পারি না। কতরকম তাদের নাম কতরকম তাদের ডিজাইন।
সেদিন নিউমার্কেটের কাছে একটা বই-এর দোকানে বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে ‘Indian Sarees’ এর ওপর একটা ইয়া মোটা বই দেখলাম কয়েকটা পাতা উলটে দেখলুম ,বিভিন্ন সব শাড়ীর গুনগান করা হয়েছে বইটির মধ্যে তাদের কতরকম ছবি , কিভাবে পরতে হয় , কোনটা কত লম্বা ও কত চওড়া ,কোন প্রদেশের মহিলারা কি ধরনের শারী পরেন, সেসব বিশদভাবে লেখা মনে মনে ভাবলাম , বাব্বা ওই ১২ হাত লম্বা আর ৪ হাত চওড়া ন্যাকরা’ কে নিয়ে এত আদিখ্যেতা কিসের , বুঝি না লেখক/লেখিকার নাম দেখতে গেলাম, দেখলাম একটি নয় অনেকজন মিলে লিখেছেন এবং আশ্চর্যজনক ভাবে সবাই লেখক, একটিও লেখিকার নাম মনে হল না তার মধ্যে একটু যেন লজ্জাই হল  
কিছু শাড়ী আগে থেকেই তুলি পছন্দ করে রেখেছিল, সেগুলি নেওয়া হল এবং (বোধহয়) আরও কিছু নেওয়া হল। সবকিছু নিয়ে আবার নীচে এলাম। মুখের মৃদু হাসিটি অক্ষত রাখিয়া , ধোপধুরস্ত গৃহস্বামীটি  আবার আমদের আপ্যায়ন করে বসালেন এবং তাঁহার দৃঢবিশ্বাস যে ওপরে আমদের গরমে খুব কষ্ট হয়েছে সেটি আবার শোনালেন , ক্ষমাও চেয়ে নিলেন। 
আথিতেয়তার কোনরকম ত্রুটি নেই। মালকিন বিল তৈরী তে ব্যাস্ত হলেন। তুলি একটু বলল যদি দাম কিছু কম করা যায় বা কোনরকম discount দেওয়া হচ্ছে কিনা।
মুখে স্মিতহাসি টেনে গৃহস্বামী বলিলেন এখানে ওসব হয় না। সবকিছুতে একদম ন্যায্য দাম ধার্য করা হয়েছে। ততক্ষনে মালকিনের মুখেও স্মিতহাসি এবং সেই বিজাতীয় ভাষায় একটু গর্বের সহিত উবাচ... ‘To be honest , no-discount is our strong point’…তারপর একটু থেমে এবং মুখমন্ডলে একটু দুঃখী ভাব এনে ও হাল্কা ন্যাকামীর ছোঁয়া দিয়ে...’at the same time , it is our weak point too!’
যা বাব্বা , একই সঙ্গে একই জিনিস strong point আবার weak point , মাথার ওপর দিয়ে গেল। নিজেই নিজেকে ধমকালাম ‘ব্যাটা তুই কি সবজান্তা, যে সবকিছু জেনে বসে আছিস?’
যাইহোক মুখে একটা কুলুপ এঁটে রইলাম।
হঠাত করে পরিবেশ টা কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেল। একদম নিস্তব্ধ। সেটা যে, discount দেওয়া হয় নি তার মনঃক্ষুন্নতার জন্য, নাকি ন্যায্য দাম ধার্য করা হয়েছে তার খুশিতে, সেটা বোঝা গেল না। কেমন যেন দম বন্ধ হবার পরিবেশ। যে কথাগুলি খুব মিস করছিলাম সেগুলি মাথা মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল, মুখে আসছিল কিন্তু বলতে পারছিলাম না ’দাদা, ৫০০ টাকা কম করুন...ঠিক আছে দাদা , আপনার কথাও রইল আমার কথাও রইল ৪৫০ এ রফা করুন...খুব পারবেন দাদা...হবে না বলে কিছু হয় না দাদা...এই টাকা রইল , দিতে হয় দিন ,নাহলে চল্লুম ভাই’ ইত্যাদি ইত্যাদি  
এই নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাত করে খসখস করে আওয়াজ শুনতে পেলাম। ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি তুলি টাকা গুনছে, দেবার জন্য। বাঁ হাতের বুড়ো আঙ্গুল থেকে নোট গুলো ফস্কাচ্ছে , আর ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল সেগুলি লুফে নিচ্ছে। এখানেও দেয়া নেওয়ার খেলা।
টাকা মিটিয়ে receipt নিলাম। গৃহস্বামী দাদাটি প্যাকেটগুলি নিয়ে আমাদের গাড়ি অবধি পৌঁছতে আসছিলেন, ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম ,তার দরকার নেই। মনে মনে বললাম ‘বেরতে পারলে বাঁচি’। এমনিতেই আমি শপিং-বিমুখ তার ওপর আবার এরকম একটা পরিবেশে কেমন একটু ছটফটানি লাগছিল।
দরজা ঠেলে বেরিয়ে এলাম। তাড়াতাড়ি অথচ সাবধানে গাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম, যাতে না আবার হোঁছট খাই। হয়ত হোঁছট খাবার পরই কানে শুনব ‘কোথাও লাগে নি তো!’, আর ঘাড় ঘুরিয়ে দেখব গৃহস্বামী দাদা টি দাঁড়িয়ে , হাতে ফার্ষ্ট-এড বাক্স। কে জানে হয়ত কাচের দরজার ওপার থেকে উনি লক্ষ রাখছেন আমাদের গাড়ি অবধি পদযাত্রা।
গাড়ি তে উঠেই ড্রাইভার কে বললাম তাড়াতাড়ি বেরোতে। মনে মনে ভাবলাম ‘বেরোতে গিয়ে চাকা টাকা আবার ফেঁসে না যায়।‘  যদি ফাঁসেও, গৃহস্বামী দাদাটি যে স্টেপনি হুইল, স্প্যানার ইত্যাদি নিয়ে হাজির হবে না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আবার ভাবলাম ,কিছুই বলা যায় না , হাজির হলেও আশ্চর্য হবার কিছু নাই।
গাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে বাঁক নিতেই ,আড়চোখে (কাপড়া) কফিনের কাচের দরজার দিকে একবার তাকালাম, মনে হল দুই জোড়া চোখ অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। ‘The Others’ ছবির শেষ দৃশ্যটা মনে পরে গেল ,যেখানে মানুষগুলো বাড়ী হতে বিদায় নিয়ে যখন চলে যাচ্ছে, তখন সেই বাড়ীতে বসবাসকারী ভুতের ফ্যামিলি (মা ও শিশুরা ) কাচের জানলার ওপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। আতঙ্কে চোখ বুজলাম
কিছুক্ষন চোখ বন্ধ করার পর হঠাত কানে শুনলাম ‘যা নেবেন একশ টাকা, পাঁচটা নিলে একটা ফ্রী! যা নেবেন একশ টাকা, পাঁচটা নিলে একটা ফ্রী!... মাল খারাপ হলে ফেরত হয়..’ ইত্যাদি। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে চোখ খুললাম।
এতক্ষন চারপাশটা ভাল করে দেখি নি, সেই দুপুরে কফিন এ ঢুকেছিলাম, দুপুর গড়িয়ে বিকেল , তারপর সেই বিকেল গড়িয়ে হাল্কা সন্ধ্যা নেমেছে। এতক্ষন ছিলাম কফিনের মধ্যে!
গাড়িটা গড়িয়াহাট বাজারের পাশে একটা গলি দিয়ে বেরচ্ছিল। টুপ-টাপ করে করে বাজারের লাইট গুলি ধীরে ধীরে জ্বলে উঠছে। পশ্চিমের আকাশে একটু লালচে। সারাদিনের প্রখর উত্তাপে কলিকাতা অর্ধ-সিদ্ধ। যদিও তাকে উপেক্ষা করেই বাজারে ও রাস্তায় লোক সমাগমের কোন খামতি নেই। ‘সিটি অফ জয়’ নামটি সত্যিই সার্থক। 
আমাদের গাড়ি গলি ছাড়িয়ে বড় রাস্তায় পড়ল।

Disclaimer : ‘কাপড়া কাফিলা’ দোকানটি নিয়ে যা লেখা হয়েছে , তা নিছকি মজা করেই। কোনরকম ব্যাক্তিগত বিদ্বেষ বা তাকে খারাপ প্রতিপন্ন করা এই লেখাটির উদ্দেশ্য নয়। দোকানটি খুব-ই ভাল এবং সেখানে লোকেদের ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়। পাঠকদের এখানে যাইতে আন্তরিকভাবে উতসাহিত করি।