Monday, February 2, 2015

খোকা ৪২০ মুভি রিভিউ।

খোকা ৪২০ (দেব, শুভশ্রী,নুসরত,তাপস,রজতাভ) : কিছু চিন্তা , কিছু ভাবনা

অমলেন্দু ঠাকুর 


উপরোক্ত বাংলা ছবিটি আজ দেখলাম , তাই কিছু লিখতে ইচ্ছা করল। 

গুটি গুটি পায়ে বাংলা ছবি যে আজ অনেক পথ পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক তে পরিনত হয়েছে , তা খোকা-৪২০ ছবি না দেখলে বোঝা যাবে না। ছবিটিতে নাকি তেলুগু ছবির ছায়া আছে বলছে, কিন্তু শুধু ছায়া নিয়ে তো আর ছবি হয় না, সেই ছায়া তে রক্ত মাংস লাগিয়ে ছবিটিতে পরিপূর্নতা আনার পুরো কৃতিত্ব অবশ্যই বাঙ্গালী পরিচালক ও প্রজোযকদের। ছবিটির একদম শুরুর দিকেই “Mad I am , তোর প্রেমে , Mad I am mad…” গানটি সত্যই মন কে একটু এবং বেশি করে কানকেই নাড়া দিয়ে যায়। এছাড়া “সলিড কেস খেয়েছি...” , “গভীর জলের ফিস আমি ...” গানগুলি যেমন নয়নাভিরাম তেমনি শ্রুতিমধুরও বটে। বাহবা দিতে হয় গানগুলির গীতিকারকে , আমার মনে হয় উনি একজন ভাল ডাক্তার এবং গানও লেখেন, কারণ দর্শকদের নারীটা এত ভাল বোঝেন ! 

ছবিটিতে সবথেকে যেটা বেশি টানে , সেটি হল এর Action Stunts, যার জন্যই এটাকে প্রাপ্তবয়স্ক বলা যায়। শুধু বলিউড কেন, হলিউড এও এরকম Action আগে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। নায়কের চরিত্রে দেব অবলীলাক্রমে সেইসব দুর্দান্ত ও রোমহর্ষক Action সিন করেছেন। অভিনয়েও উনি কম যান না, তবে অভিনয়ের থকে মারপিট করতেই ওনার সময় বেশি চলে গেছে।
উড়তে অনিচ্ছুক একপাল হাঁস কে পিছন থেকে তাড়া করলে তারা যেভাবে উড়ে যায়, সেভাবেই দেব ও শ্ত্রুপক্ষের ৪/৫ টা গাড়ী একসাথে উড়ে এ ওর ওপর গিয়ে যেভাবে পড়ছে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সত্যি অপূর্ব। এটাতো কিছুই না, আরও নানারকম উদ্ভাবনী Stunts দেখতে পাবেন এই ছবিতে।

পার্শ্বনায়িকা হিসাবে নুসরত দারুন অভিনয় করেছেন। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার ‘রূপ, রস,গন্ধ,স্পর্শ’ সবই ইনি পেয়েছেন, এনাকে আর পায় কে ? দেখতে মিষ্টি ও অভিনয়ও মিষ্টি, মাঝে মাঝে একটু যেন আড়ষ্ট, বোধহয় লজ্জায় । কিন্তু তাতে কি ? লজ্জাই ত নারীর ভূষণ।

নায়িকার চরিত্রে শুভশ্রী কাঁপিয়ে দিয়েছেন। এমন ‘সুন্দর,শান্ত,সাবলীল অথচ দরকার পড়লে গর্জে উঠতে দ্বিধা না করা’ অভিনয় অনেকদিন দেখি নি। তবে এই চরিত্রটাতে বলিউড এর আদুরে নায়িকা হিসাবে খ্যাত ম্যাডাম জুহি চাওলা কে খুব মিস করেছি।যতদুর চোখ যায় এক সবুজ প্রান্তর, তার একদিকে বলিষ্ঠ বুকের পাটা সহ ৬-প্যাক নিয়ে নায়ক হাফ উদোম হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন , অন্যপ্রান্ত থেকে নায়িকা দুহাতে নিজের ঘাঘরাটি খামছে ধরে অল্প একটু তুলে (যাতে হোঁচট না খেতে হয় ) slow motion এ দৌড়তে দৌড়তে এসে নায়কের বুকে আছরে পড়ছেন এবং তারপর নায়ক ও নায়িকা দুজনেই চুড়মার হয়ে যাচ্ছেন , এইরকম দৃশ্যে ম্যাডাম জুহি র জুরী মেলা ভার। শুভস্রী র পক্ষে অতটা সম্ভব হয় নি , তবে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন নি।

বেশকিছু আবেগজড়িত ডায়লগ এ ভর্তি এই ছবিটি। তাই স্পর্শকাতর দর্শক দের চখ কড়কড় করে উঠতেই পারে , তাই আগেভাগে টিস্যু পেপার কাছে রাখা বাঞ্ছনিয়। কারণ টিস্যু পেপার আনতে যে মহামূল্য সময় নষ্ট হবে , তা একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ না।
মারপিট , গান ও আবেগজড়িত ডায়লগ , এইসব বাদ দিলে , ছবিটার বাকীটা শিক্ষামূলক বলা যায়। মানুষের জীবনের ঘাত প্রতিঘাত, কলহ, দ্বিধা দ্বন্দ্ব, ভুলভ্রান্তি এবং সবশেষে সত্যের ই জয়গান গাওয়া হয়েছে ছবিটিতে।

কঠিন,বিশ্রী ,শুস্ক ও তীব্র ঠান্ডার পর যেমন কোকিল এর কুহু ডাক , পাখির কলকাকলী ও গাছের ডালের ফাঁকে সবুজ পাতার উঁকি মারা দিয়ে যেমন ঝকঝকে বষন্ত আসে, ঠিক সেইভাবেই এই ছবিটিতেও ঠেলাঠেলি , ধাক্কাধাক্কি , মারপিট , রক্তারক্তি ও বহু কথা কাটাকাটির পর শেষ দৃশ্যে সবাই হাসিমুখে একসাথে দাঁড়িয়েছেন। যারা সত্য কে মানতে চান নি, তাঁরা বলেছেন ‘না আমরাই ভুল ছিলাম ‘ আর যারা সত্যের জন্য লড়াই করছিলেন তাদেরও মুখে জয়ের হাসি...কেমন যেন একটা গদগদ সিন। অপূর্ব এই দৃশ্য...চোখে জল এসে যায়। (টিস্যু পেপার!! )

যেহেতু দুটি নায়িকা, আন্তজার্তিক চলচিত্রের নিয়ম(?) মেনে এ ছবিতেও একজন নায়িকা ( এখানে নুসরত) নিজে আত্মত্যাগ করেছেন , তবে হ্যাঁ, সেই সেকেলে ছবির মত তিনি সুইসাইড বা খলনায়কের গুলি তে মারা যান নি। সত্য কে মেনে নিয়েছেন নিঃশর্ত ভাবে। এটাই এই ছবির u.s.p. বলা যায়। কে জানে হয়ত বা পার্ট-২ তে , পরিচালক এই নায়িকা কে মেরে ( বা ডিভোর্স করিয়ে, বিয়ে ত আবার বেশিদিন আজকাল টেকে না) নূসরত কে তার বেঘোরে খোয়ানো প্রেমিক কে পাইয়ে দেবেন , নায়ক ও খুশি, কারণ ততদিনে তিনিও হয়ত নায়িকার সাথে হাঁফিয়ে উঠেছেন।

এই ছবিতে আর একটি বড় পাওয়া হল তাপস পাল ও রজতাভ দত্ত এর অভিনয়। সম্পুর্ন ভিন্ন রুপে এদের দেখতে পাবেন। মাঝে মাঝে এটা মনে হওয়া একদমই অস্বাভাবিক নয় যে “এনারা ওঁরাই তো ??”

নির্মম ও নিষ্ঠুর খলনায়ক এর চোখে কাজল পরার বলিউডি পরম্পরা , এই ছবিতেও বর্তমান। তবে একটু বাঙালীয়ানা আনতে মেকাপম্যান কাজল টা শুধু চোখের পরিসীমার মধ্যেই আবদ্ধ রাখেন নি , কানের দিকে কিছুটা টেনেও দিয়েছেন, ছোটোবেলায় আমাদের মায়েরা যেমন দিতেন। তাই খলনায়ক যখন মার খায় , কেমন যেন একটু মায়া হয়।

ছবিটি youtube নামক ফ্রী মুভি থিয়েটার এ দেখান হচ্ছে। তাই দেরী না করে তাড়াতাড়ী দেখে নিন। কিছু কুচক্রী ও আইনের পৃষ্ঠপোষকের কানভাঙ্গানি তে , হল মালিক আবার ছবিটি তুলে না নেয়।

সর্বশেষে একটা কথা বলতে চাই, ছবিটির একশত ভাগ অনুধাবন করতে চাইলে, আপনি একদিন ছুটি নিন , (কিন্তু স্ত্রী যেন ছুটি না নেয়), স্ত্রী কে অফিস এ পাঠান, বাচ্চাদের স্কুল বা ডে কেয়ার এ পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত মনে দেখুন। কোনোরকম disturbance এই ছবিটি দেখার সময় খুবই মারাত্মক, কারণ ছবিটি দেখতে দেখতে আপনি যখন বিভোর হয়ে যাবেন , আপনার শরীরের শিরা ,উপশিরায় একপ্রকার রসের সঞ্চারন হবে, তাই কোনোরকম disturbance আপনার এই রসের প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে, যেটাতে আপনি হয়ত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারেন।

তাই দয়া করিয়া দেখার আগে ভেবেচিন্তে, প্লান করে দেখুন।
যাইহোক আমার কথাটি ফুরলো, নটে গাছটি মুড়লো!

No comments:

Post a Comment